অনেক দিন থেকেই ভাবছিলাম এ বিষয়টি নিয়ে লিখব, কিন্তু সময় করে উঠতে পারছিলাম না। রাষ্ট্রবিজ্ঞানের একজন ছাত্র হিসেবে নিজেদের জাতীয়তাবাদের এই দ্বন্ধ আমার মোটেই পছন্দ নয়। সম্প্রতি সংবিধান সংশোধন সংক্রান্ত সুপ্রীম কোর্টের রায়ে বলা হয়েছে মূল সংবিধান বা ৭২ এর সংবিধানে বাঙালি জাতীয়তাবাদের কথা বলা হলেও দীর্ঘদিন বাংলাদেশি হিসেবে আন্তর্জাতিক অঙনে পরিচিতি লাভ করায় এবং পাসপোর্ট সহ সকল প্রয়োজনীয় কাগজপত্রে বাংলাদেশি কথাটি উল্লেখ থাকায় নাগরিকত্বের পরিচয়ে আমরা বাংলাদেশি বলে গণ্য হবো।
ভাবতে অবাক লাগে ১৯৭১ সালে বাংলাদেশ নামক এই রাষ্ট্রটি যিনি প্রতিষ্ঠা করলেন (আসলে যার নেতৃত্বে বাংলাদেশ নামক রাষ্ট্রটি প্রতিষ্ঠিত হলো) তিনি অর্থাৎ জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকেও বাঙালি জাতির জনক বলা হয়। অথচ পশ্চিম বঙ্গ নামে একটি রাজ্য আছে ভারতে এবং সেখানকার অধিবাসী বা আয়তন কোন অংশেই বাংলাদেশের চেয়ে কম নয়। তাহলে কী আমাদেরকে ধরে নিতে হবে এপার বাংলা এবং ওপার বাংলা মিলে যে বাঙালি জাতি বঙ্গবন্ধু সেই জাতির জনক! নিশ্চয়ই না। তার মানে তিনি আসলে বাংলাদেশি জাতির জনক। মরহুম জিয়াউর রহমান যে বাংলাদেশি জাতিয়তাবাদ আবিষ্কার করেছিলেন, সেটাকে এখন আর শুধু দলীয় দৃষ্টিকোণ থেকে দেখা উচিত নয়। ৭১ সালে মুক্তিযুদ্ধের মাধ্যমে যে বাংলাদেশ আমরা পেলাম, সেই বাংলাদেশে কেবল বাঙালি নয় বিভিন্ন উপজাতিদেরও বসবাস রয়েছে। যদি বঙ্গবন্ধুকে আমরা বাঙালি জাতির জনক বলি তাহলে চাকমা বা পাহাড়িসহ বিভিন্ন উপজাতির মানুষগুলোর জাতির জনক কে হবেন? নিরপেক্ষ দৃষ্টিতে দেখলে এটাই প্রতীয়মান হয় যে, ভাষাগত দিক থেকে আমরা বাঙালি আর রাষ্ট্রীয় ভূখন্ডগত অবস্থানের দিক থেকে আমরা বাংলাদেশি। অতএব আমাদের পরিচয় হবে আসলে বাংলাদেশি বাঙালি। যারা ধর্মভিত্তিক জাতীয়তা নিয়ে হইচই করেন তাদেরকেও আমরা এখানে রাখতে পারবো। যেমন- ব্যক্তিগতভাবে ধর্মীয় পরিচয়ে আমি একজন মুসলমান। ভাষাগত দিক থেকে আমি বাঙালি। আর রাষ্ট্রীয় পরিচয়ে আমি অবশ্যই বাংলাদেশি। তাই আমার পরিচয় আমি একজন বাংলাদেশি বাঙালি মুসলমান।
সুতরাং রাজনৈতিক কারণে বিতর্ক নয়, বাস্তবতায় আসুন। নিজেদের জাতীয় পরিচয় নিয়ে অন্তত আমরা ঐক্যবদ্ধ হই এটাই প্রত্যাশা।
ভাবতে অবাক লাগে ১৯৭১ সালে বাংলাদেশ নামক এই রাষ্ট্রটি যিনি প্রতিষ্ঠা করলেন (আসলে যার নেতৃত্বে বাংলাদেশ নামক রাষ্ট্রটি প্রতিষ্ঠিত হলো) তিনি অর্থাৎ জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকেও বাঙালি জাতির জনক বলা হয়। অথচ পশ্চিম বঙ্গ নামে একটি রাজ্য আছে ভারতে এবং সেখানকার অধিবাসী বা আয়তন কোন অংশেই বাংলাদেশের চেয়ে কম নয়। তাহলে কী আমাদেরকে ধরে নিতে হবে এপার বাংলা এবং ওপার বাংলা মিলে যে বাঙালি জাতি বঙ্গবন্ধু সেই জাতির জনক! নিশ্চয়ই না। তার মানে তিনি আসলে বাংলাদেশি জাতির জনক। মরহুম জিয়াউর রহমান যে বাংলাদেশি জাতিয়তাবাদ আবিষ্কার করেছিলেন, সেটাকে এখন আর শুধু দলীয় দৃষ্টিকোণ থেকে দেখা উচিত নয়। ৭১ সালে মুক্তিযুদ্ধের মাধ্যমে যে বাংলাদেশ আমরা পেলাম, সেই বাংলাদেশে কেবল বাঙালি নয় বিভিন্ন উপজাতিদেরও বসবাস রয়েছে। যদি বঙ্গবন্ধুকে আমরা বাঙালি জাতির জনক বলি তাহলে চাকমা বা পাহাড়িসহ বিভিন্ন উপজাতির মানুষগুলোর জাতির জনক কে হবেন? নিরপেক্ষ দৃষ্টিতে দেখলে এটাই প্রতীয়মান হয় যে, ভাষাগত দিক থেকে আমরা বাঙালি আর রাষ্ট্রীয় ভূখন্ডগত অবস্থানের দিক থেকে আমরা বাংলাদেশি। অতএব আমাদের পরিচয় হবে আসলে বাংলাদেশি বাঙালি। যারা ধর্মভিত্তিক জাতীয়তা নিয়ে হইচই করেন তাদেরকেও আমরা এখানে রাখতে পারবো। যেমন- ব্যক্তিগতভাবে ধর্মীয় পরিচয়ে আমি একজন মুসলমান। ভাষাগত দিক থেকে আমি বাঙালি। আর রাষ্ট্রীয় পরিচয়ে আমি অবশ্যই বাংলাদেশি। তাই আমার পরিচয় আমি একজন বাংলাদেশি বাঙালি মুসলমান।
সুতরাং রাজনৈতিক কারণে বিতর্ক নয়, বাস্তবতায় আসুন। নিজেদের জাতীয় পরিচয় নিয়ে অন্তত আমরা ঐক্যবদ্ধ হই এটাই প্রত্যাশা।
কোন মন্তব্য নেই:
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন